ব্যবস্থাপনাই বড় চ্যালেঞ্জঢাকা দক্ষিণে বর্জ্যের ১৫ শতাংশই প্লাস্টিক,
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-০৭-২০২৬ ০১:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০৭-২০২৬ ০১:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এই তিন হাজার ৩০০ টনের ভেতরে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশই হলো প্লাস্টিক বর্জ্য। আর প্লাস্টিক বর্জ্যের ভেতরে অধিকাংশই হলো একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক। এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করপোরেশনের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ ও অংশীদারদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যৌথভাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। মিডিয়া পার্টনার ছিল জাগোনিউজ২৪.কম।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, রাজধানীর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে কোরিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচটি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী মাস থেকে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এসব প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মাতুয়াইলে আমাদের যে বিদ্যমান ল্যান্ডফিল আছে সেটা হলো ১০০ একর আর নতুন ল্যান্ডফিল আছে ৮১ একর, টোটাল ১৮১ একর। ওল্ড ল্যান্ডফিল থেকে আমরা প্রায় সাড়ে চার লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমপরিমাণ মিথেন গ্যাস প্রতি বছর ওখান থেকে উঠাতে পারব। সেই মিথেন গ্যাসটাকে আমরা ইলেকট্রিসিটি প্ল্যান্টে ইউজ করে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করব।’
মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের ওপর সোলার প্যানেল বসানো হবে জানিয়ে মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ওই সোলার প্যানেল বসিয়ে ওখান থেকে প্রতি বছরে প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবো। আগামী ১০ থেকে ১২ বছর পর ল্যান্ডফিলটাকে ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা করে দিব। সেই ডিজাইন এবং ড্রয়িং প্রায় শেষ।’
পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট সম্পর্কে মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘দ্বিতীয় যে প্ল্যান্টটা হবে সেটা হলো পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট, যেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ লিটার জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে। আর তৃতীয় হলো কম্বাস্টেবল ওয়েস্ট যেমন কাগজ, কার্টন ও কাপড় প্রসেস করে আমরা আরডিএফ তৈরি করব, যা ব্রিক ফিল্ডে এবং অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিতে জ্বালানি হিসেবে ইউজ করা যাবে।’
নন-কম্বাস্টেবল বর্জ্য নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘পরবর্তী প্ল্যান্টে আমরা নন-কম্বাস্টেবল ওয়েস্ট যেমন সিরামিক বা টাইলসের ভাঙা অংশ প্রসেস করে ইকো-ব্রিক তৈরি করব। এছাড়া একটি বিএসএফ প্ল্যান্ট হবে। মাছির লার্ভা প্রসেস করে এবং ড্রাই করে প্রোটিন আকারে ফিশ ফিড এবং পোল্ট্রি ফিড হিসেবে ইউজ করতে পারব। এখান থেকে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টন ফিশ ফিড ও পোল্ট্রি ফিড আমরা পাব। আমাদের টার্গেট হলো বর্জ্যকে জিরো করা।’
সোর্স সেগ্রিগেশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম, কিন্তু সেই বিনগুলো চাল রাখার কন্টেনার হিসেবে ইউজ করা হচ্ছে। সচেতনতা না বাড়লে কোনো পলিসি বা রুলস দিয়ে সুফল পাওয়া যাবে না।’
সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ৩৩টি হটস্পট নির্ধারণ করেছি এবং বিডি ক্লিন ও সাজিদা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পেইন করছি। এখন আমরা ওয়ার্ড নম্বর ৯-কে (মতিঝিল এলাকা) একটা মডেল করতে চাচ্ছি। সেখানে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছি যারা ১০টি জোনে ভাগ হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করবে এবং মানুষকে সচেতন করবে। এরকম পাঁচ মাস ক্যাম্পেইন চালানো হবে। যারা কোঅপারেট করবে না তাদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ এবং যারা নিয়ম মানবে তাদের ‘গুড সিটিজেন’ হিসেবে মার্কিং করা হবে এবং প্রচার করা হবে।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘সম্প্রতি জলাবদ্ধতার সময় ড্রেন থেকে আমরা কাঁথা, বালিশ এমনকি সিমেন্টের বোল্ডার পর্যন্ত বের করেছি। এই শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের না, এটা সবার। আমাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে, আদারওয়াইজ পরিবর্তন আসবে না। ওয়েস্ট আসলে একটা রিসোর্স, যদি আমরা তা ব্যবহার করতে পারি
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বর্জ্য ও কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা) রাজিনারা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন) খালেদ হাসান, পরিচালক (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (পরিকল্পনা শাখা) মো. হাসান হাসিবুর রহমান, পরিচালক (আইটি) মো. সাদিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের (বিপিসিএল) প্রধান নির্বাহী খাদেম ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিব আহমেদ, বুয়েটের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাকিল আক্তার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কাদের ইবনে কামাল, বিইউপির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান ভূঁইয়া, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল ও হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া তাবাসসুম আহমেদ, ইউনিডোর ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মো. সহিদুল ইসলাম সিয়াম, ইউনিলিভার বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রকিউরমেন্ট লিড দিলরুবা আহমেদ চৌধুরী, ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী, ব্র্যাকের বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান সমন্বয়কারী সংকলিতা সোম, লাফার্জ হোলসিমের ডেপুটি ম্যানেজার (জিওসাইকেল) তামরিন চৌধুরী, নেসলে বাংলাদেশের এইচআর ডিরেক্টর হোসনে আরা লোমা, ম্যারিকো বাংলাদেশের ডিরেক্টর (লিগ্যাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) রাশেদ এহসান, ওয়েস্ট কনসার্নের কো ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ, জাগো নিউজের সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক, সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার জাহিদুর রহমান প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স